চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের কোনো ধরণের প্রশাসনিক বা একাডেমিক হস্তক্ষেপ মেনে নিতে নারাজ শিক্ষার্থীরা। তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য একজন অধ্যাপককে রুটিন দায়িত্ব প্রদানের প্রতিবাদে সোমবার দিনব্যাপী শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য কিংবা তাঁর মনোনীত কোনো প্রতিনিধি ক্যাম্পাসের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলেই তা প্রতিহত করা হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের মতে, দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন পদক্ষেপ তাদের পূর্বঘোষিত অবস্থানের পরিপন্থী, যা ক্যাম্পাসে পুনরায় অস্থিরতা তৈরি করছে।
মূলত রোববার উপাচার্য অধ্যাপক শরীফুল আলম ঢাকায় ইউজিসির একটি সভায় অংশ নেওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে রুটিন প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। ১ নভেম্বর বিকেল থেকে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত এই দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাটিই শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মূল কারণ। মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী অর্নব জানান, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা শাটডাউন ডেকেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন হস্তক্ষেপ চললে আবারও একই কর্মসূচি পালন করা হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন শুরু করেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এই আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। টানা ৩৬ দিন অচলাবস্থার পর গত বুধবার সীমিত আকারে ক্লাস শুরু হলেও উপাচার্য পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখনো অব্যাহত রয়েছে।

















