পদ্মার পলিমাটি সমৃদ্ধ রাজবাড়ী জেলা ঐতিহ্যগতভাবেই কৃষিনির্ভর। ধান, পাট ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজি চাষে এখানকার কৃষকরা সারা বছর ব্যস্ত থাকেন। তবে চলতি মৌসুমে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকের উচ্চ মজুরি, সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম এবং সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম চাপের মুখে পড়েছেন। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ফসলের বাজারমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই ব্যয় গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষভাবে ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচযন্ত্র চালানো এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো জমিতে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। লাভের আশা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই উঠে আসছে না।
রাজবাড়ীর এক নারী কৃষক মরিয়ম জানান, কৃষি উপকরণের আকাশচুম্বী দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় চাষাবাদ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, উৎপাদন বাড়লেও বিক্রি করার সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। তিনি ফসলের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন অনেকে, যা পুরো কৃষি ব্যবস্থার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে, কৃষি উপকরণের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বছর কীটনাশকের কোনো সংকট নেই এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন যেন তারা সরকারি নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে সার ও কীটনাশক সংগ্রহ করেন। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
কৃষকদের দাবি, উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। টেকসই কৃষির স্বার্থে সেচ ও জ্বালানি ব্যয় কমিয়ে ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের তদারকি এবং সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা গেলে কেবল তখনই উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষকের আয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।












