দেশীয় উৎপাদকদের বাজার সুরক্ষা এবং আমদানি নীতিতে ভারসাম্য আনতে নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার সরকার। কাতারের আমির মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ২০২৬ সালের ৪৫ নম্বর আমিরি ডিক্রির মাধ্যমে এই নতুন শুল্ক হার অনুমোদন করেছেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল গেজেটের ১৭তম সংখ্যায় ডিক্রিটি প্রকাশ করা হয়।
কাতারের সংবিধান, ২০০২ সালের ৪০ নম্বর সংশোধিত কাস্টমস আইন এবং শুল্ক অব্যাহতি ও সমন্বিত শুল্ক সংক্রান্ত পূর্ববর্তী ডিক্রিগুলো পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই নতুন আইনি আদেশ জারি করা হয়েছে। মূলত নির্দিষ্ট মৌসুমে স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার চাঙ্গা রাখা এবং দেশীয় খামারিদের সহায়তা দেওয়াই এই শুল্ক নীতি সংস্কারের লক্ষ্য।
হিমায়িত মুরগির মাংসে শুল্ক বৃদ্ধি
নতুন ডিক্রির প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু তাজা ও হিমায়িত মুরগির মাংস আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলো হলো
- আস্ত তাজা বা হিমায়িত মুরগি
- হিমায়িত মুরগির বুক
- মুরগির উরু
- মুরগির ডানা
কৃষিপণ্যের নতুন শুল্ক কাঠামো
ডিক্রির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশীয় ফসলের ভরা মৌসুমে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট কিছু সবজির ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পণ্যের ধরনভেদে এই শুল্ক আরোপের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ
- টমেটোজানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল এবং মে মাসে এই ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে।
- বেগুনজানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
- করলা বা জুকিনিজানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে নতুন শুল্ক হার কার্যকর থাকবে।
কার্যকরের সময়সীমা
ডিক্রির তৃতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ এখতিয়ারে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিশিয়াল গেজেটে প্রকাশের ৬০ দিন পর থেকে এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হবে। যেহেতু গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে গেজেটটি প্রকাশিত হয়েছে, তাই নির্ধারিত ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন শুল্কহার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

















