জার্মান পর্যটক কিরিল ল্যান্ডার উইবারের হারানো ল্যাপটপটি নাটোর রেলস্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগার থেকে উদ্ধারের পর রবিবার রাত ১০টার দিকে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ল্যাপটপটি উদ্ধারে পুলিশের কয়েকটি দল টানা চেষ্টা চালিয়েছে। উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে নাটোর থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত বিভিন্ন রেলস্টেশনে তল্লাশি চালানো হয় এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ডিভাইসটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকা থেকে অন্তর কুমার সাহা নামের এক যুবকের কাছ থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপার জানান, অন্তর তাদের জানিয়েছেন যে তার বাবা অমল কুমার সাহা গত বৃহস্পতিবার সকালে নওগাঁ যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। পথে ট্রেনটি মাধনগর এলাকায় পৌঁছালে তিনি ট্রেনের একটি বগির আসনের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ল্যাপটপসহ ব্যাগটি খুঁজে পান। পরে তিনি ব্যাগটি নিয়ে নওগাঁয় তার শ্বশুরবাড়িতে চলে যান এবং বিষয়টি ছেলেকে জানানোর পর তারা তা নাটোরে ফিরিয়ে আনেন। ল্যাপটপ চুরির ঘটনার সাথে অন্তর বা তার বাবা জড়িত নন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, জার্মান নাগরিক কিরিল ল্যান্ডার উইবার বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বগুড়া থেকে লোকাল ট্রেনে সান্তাহার আসেন। এরপর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস যোগে তিনি নাটোর স্টেশনে পৌঁছান। তার পরিকল্পনা ছিল নাটোর থেকে ট্রেনে দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে যাওয়ার। নাটোর স্টেশনে অপেক্ষা করার সময় রেলের ইউনিফর্ম পরিহিত এক ব্যক্তির সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। কিরিল বিশ্বাস করে তার ব্যাগটি সেই ব্যক্তির জিম্মায় রেখে এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। ফিরে এসে তিনি দেখেন সেই ব্যক্তি ব্যাগ ও ল্যাপটপ নিয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে।
ল্যাপটপসহ মূল্যবান সামগ্রী হারিয়ে বুধবার রাতে জার্মান ওই পর্যটক নাটোর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ সক্রিয় হয় এবং শেষ পর্যন্ত ল্যাপটপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে নাটোর সদর থানার ওসি মো. মনসুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে ল্যাপটপটি উদ্ধারের বিষয়টি জার্মান ওই পর্যটককে অবহিত করা হয়েছে।

















