যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বিতর্কিত বাণিজ্যচুক্তি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তিসহ সব অসম বৈদেশিক চুক্তি বাতিলের দাবিতে সমাবেশ করেছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। আজ শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এই সমাবেশে নেতারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। এতে বক্তব্য দেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেনসহ আরও অনেকে।
সরকারের নীতি ও সমালোচকদের অবস্থান
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দেওয়া হলেও বর্তমান সরকার ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাঁদের দাবি, এক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাব থেকে বেরিয়ে দেশকে অন্য শক্তির কাছে নির্ভরশীল করে তোলা হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং দিল্লির একটি কোম্পানিকে এর ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার বিষয়টিরও তীব্র সমালোচনা করেন নেতারা। বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার জনমত উপেক্ষা করে অসম চুক্তি বাস্তবায়ন করছে। এ সময় তাঁরা মন্তব্য করেন যে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১-দলীয় জোটও এসব চুক্তির বিরোধিতা না করে কার্যত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।
প্রস্তাবিত কর্মসূচি ও দাবি
সমাবেশ থেকে আগামী দুই মাসব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, পদযাত্রা ও গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি পালন করা হবে। নেতাদের দাবির মধ্যে রয়েছে
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা অসম বাণিজ্যচুক্তি ও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দর ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিল করা।
- ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি করার আত্মঘাতী উদ্যোগ বন্ধ করা।
- সুন্দরবন ধ্বংস করে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করা।
- আন্তর্জাতিক সামরিক জোটে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার যেকোনো প্রক্রিয়া বন্ধ করা।
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থানের আহ্বান
বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বিদেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে প্রবীণ বামপন্থী নেতা মঞ্জুরুল আহসান খান, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আনু মুহাম্মদসহ দেশের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের শুরুতে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা গণসংগীত পরিবেশন করেন এবং কবি হাসান ফখরী আবৃত্তি করেন। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন।

















