কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মন্থন গ্রামে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক প্রবাসী দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহতরা হলেন ফয়েজ আহমেদ প্রধান (৩৮) ও তাঁর স্ত্রী শেফালী আক্তার (৩৪)। অভিযোগ রয়েছে, ফয়েজের আপন বড় ভাই নজরুল ইসলাম প্রধান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পরপরই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, ফয়েজ ও শেফালী দীর্ঘ ১৮ বছর লেবাননে প্রবাস জীবন কাটিয়ে কয়েক মাস আগে দেশে ফেরেন। নিজ বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সময় থেকেই পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা বড় ভাই নজরুল ইসলাম প্রধানের সঙ্গে সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। গতকাল সন্ধ্যায় এই সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে নজরুল, তাঁর স্ত্রী সাহানারা আক্তার এবং ছেলে রাতুল ইসলাম প্রধান ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফয়েজ ও শেফালীর ওপর চড়াও হন এবং তাঁদের কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ফয়েজ ও শেফালী প্রায় ১৮ বছর লেবাননে ছিলেন। জামাল উদ্দিনের দাবি, গতকাল মাগরিবের নামাজের পর বাড়ির সীমানা বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত সহকারী শল্যচিকিৎসক নাহিদ হাসান জানান, ভুক্তভোগীদের হাত, কানসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মারধরের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, এখনো থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















