চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ইট-বালু ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৭) হত্যা মামলায় ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া ৮ জন এবং সহায়তাকারী হিসেবে আরও ৩ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম এই প্রতিবেদন জমা দেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়িক আধিপত্য ও পূর্ববিরোধের জেরে এ পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি কালো নোহা গাড়িতে করে আসামিরা অদূরপাড়ায় পৌঁছান। চায়ের দোকানে বসা তাহসিনকে লক্ষ্য করে শটগান থেকে গুলি চালানো হয়। হত্যার পর ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তারা তাহসিনের চায়ের দোকানের দিকে এগিয়ে যান। এরপর তাকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ছোড়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তারা হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মো. হাসান, মোহাম্মদ, মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, মো. হেলাল, মো. ইলিয়াছ হোসেন অপু, মো. বোরহান এবং মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশ বলছে, আসামিরা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী। এদের মধ্যে ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে বড় সাজ্জাদ নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বড় সাজ্জাদ দাবি করেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁ কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পুলিশের অভিযোগ, সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা অভিন্ন উদ্দেশ্যে এতে অংশ নেন।
সরাসরি হামলাকারীদের বাইরে পরিকল্পনায় জড়িত ও সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত ৩ জন হলেন মো. এমরান, মো. সাইফুল ইসলাম ও শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী ওরফে রিহান শিহাব। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই তিনজন আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা জানতেন এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহসহ পুরো প্রক্রিয়ায় ইন্ধন ও প্ররোচনা যুগিয়েছেন। চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে, তাদের নামই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা আগে থেকে জানা, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের কয়েকজন সরাসরি গুলি চালান, অন্যরা অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।
তদন্তের খাতিরে সাক্ষীদের জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ব্যালিস্টিক পরীক্ষার ফলাফল এবং আলামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক অপর্ণা দাশ ও মাহরিন ইসলাম তাহসিনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। এছাড়া সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফরেনসিক ল্যাবে উদ্ধার করা আলামতগুলো পরীক্ষা করা হয়। ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ শাকেরুল আলমের মতে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া চারটি কার্তুজ ১২ বোরের শটগান বা সমজাতীয় স্মুথ বোর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছিল।
তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে চারটি ফায়ার করা কার্তুজ, ১০টি ধাতব পিলেট ও ইনার ওয়াড জব্দ করেছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কালো নোহা গাড়ি, নিহতের রক্তমাখা পোশাক, চশমা ও স্যান্ডেলসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হামলাকারীদের গাড়িতে ওঠা-নামার ভিডিও ফুটেজ সম্বলিত একটি পেনড্রাইভও জব্দ তালিকায় রাখা হয়েছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

















